২৫.০২.২০২৫
সত্য কি ? "তত্ত্বমসি" মূলসূত্র : বিবেক চূড়ামণি - আচার্য্য শঙ্কর।
আমার ভিতরে নিরন্তর একটা প্রশ্ন উথাল-পাথাল করে। প্রশ্নটি হলো, আমি কে ? আমি কেন এই মনুষ্য দেহ ধারণ করেছি ? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য আমি বইয়ের পাতা ওল্টাই - জ্ঞানীর কাছে জিজ্ঞাসু হয়ে হাজির হই। আমি যে এই দেহ নোই, এই বোধ আমার দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু আমি কে - সেই জিজ্ঞাসার মীমাংসা এখনও হয়নি। আমি আত্মা - এটি আমার কেবলমাত্র শোনা কথা। এই আত্মার উপলব্ধি, বা এই আত্মাই আমি এই বোধ আমার দৃঢ় হয়নি।
তো মুক্তানন্দ বলছিলেন, এটা নিশ্চিত জেন যে, জন্ম জন্মান্তরের যে কর্ম্ম তা যখন ফল প্রসবে উন্মুখ হয়, তখন কর্ম্মফল ভোগের জন্য একটা শরীরের প্রয়োজন হয়। আর প্রারব্ধ কর্ম্মফল ভোগ করবার জন্যই আমরা সবাই দেহ ধারণ করি। যে ধরনের দেহে যে কর্ম্মফল ভোগ সম্ভব সেই মতো সে দেহ ধারণ করে। তিন ধরনের দেহ হয়ে থাকে মনুষ্য দেহ, পশুদেহ, ও দৈব দেহ। এর মধ্যে মনুষ্য দেহই একমাত্র নতুন কর্ম্মফল সঞ্চিত করতে পারে। অর্থাৎ মনুষ্য দেহে যেমন কর্ম্মফল ভোগ হতে পারে, তেমনি আমাদের সুপ্ত কামনা-বাসনা ও সংকল্প পূরণের মাধ্যম হতে পারে এই মনুষ্য দেহ। দৈব দেহ কেবলমাত্র পুণ্যকর্ম্মফল ভোগের নিমিত্ত হয়ে থাকে, পশুদেহ পাপ-কর্ম্মফল ভোগের নিমিত্ত হয়ে থাকে, আর মনুষ্য দেহ উভয় উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে।
তো একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেলো, যে দেহটা প্রারব্ধ কর্ম্মফল ভোগের নিমিত্ত হয়েছে। আর আমরা যেসব কর্ম্ম করছি, তার ফল প্রদানের জন্য আমাদের কালের উপরে নির্ভর করতে হয়। অর্থাৎ কোনো কর্ম্ম আশু ফল প্রদান করে, আবার কোনো কর্ম্ম দেরিতে ফল প্রদান করে থাকে। তো কর্ম্মফল যথাসময়ে ফল প্রদান করে থাকে। মুক্তানন্দ বলছেন, সাবধান এখানে এসে যাকিছু করছো, তারও কিন্তু একটা ফল আছে। তাই ভবিষ্যতের দেহ কিন্তু এই জীবনের কর্ম্মের উপরে নির্ভর করবে।
কিন্তু আমার মধ্য থেকে শঙ্কা যায় কৈ ? সমস্ত কর্ম্ম তো শরীর দ্বারা কৃত হয়ে থাকে। মানুষের শরীর কর্ম্ম শরীর। এই শরীরে কর্ম্ম না করে উপায় নেই। এই শরীরকে রক্ষা করবার জন্য, এই শরীরের পুষ্টির জন্য কর্ম্ম না করে উপায় নেই। আবার এই শরীর আসলে একটা যন্ত্র বিশেষ। বলা হয়, প্রকৃতি প্রদত্ত এই শরীর জড়। পঞ্চ ভূতাত্মক এই শরীর ত্রিগুণের অসাম্যের কারনে বিক্ষুব্ধ হয়ে আছে। এই বিক্ষুব্ধ অবস্থার কারনে শরীরে চঞ্চলতা যা সমস্ত কর্ম্মের কারন হয়ে থাকে। তো শরীর একটা যন্ত্র, শরীর জড়, চেতনা রোহিত। তো বোধহীন এই শরীরের আবার প্রারব্ধ কিসের ? যদি ধরেও নেই, এই শরীর কর্ম্ম করে মনের নির্দেশে, যা এই শরীরের একটি অন্তরঙ্গ বিশেষ। অর্থাৎ আমাদের শরীরের যেমন বহিরঙ্গ অর্থাৎ চক্ষু, কর্ন নাসিকা জিহবা ত্বক, হাত, পা, ইত্যাদি আছে, তেমনি আছে হাড় , মাস, রক্ত-রস। সব মিলিয়ে হচ্ছে এই স্থূল দেহ যা আমাদের দৃষ্টিগোচর। এই স্থূল দেহের অন্তরে আছে, মন, বুদ্ধি, চিত্ত অহঙ্কার, যাকে বলা হয় অন্তর-অঙ্গ। এই অন্তরঙ্গের মধ্যেই আছে বিষয়চিন্তার ক্ষমতা। কামনা, বাসনা সংকল্প ইত্যাদির উদয় হয়ে থাকে এই অন্তর অঙ্গে। আর এই অন্তর অঙ্গের মধ্যে উত্থিত তরঙ্গ আমাদের স্থূল শরীরকে কর্ম্মের জন্য উদ্দীপ্ত করে। আর এই কারণেই শরীর কর্ম্ম করতে বাধ্য হয়। শরীর তো কর্ম্ম করে না। শরীরকে দিয়ে কর্ম্ম করানো হয়।
এতো গেলো স্থূল কর্ম্মের কথা। মহাত্মাগণ বলছেন, আমাদের যে চিন্তা তা আসলে মনের কর্ম্ম বিশেষ। মনের স্বভাব হচ্ছে চিন্তা করা। মন একমুহূর্তের জন্যও চিন্তা বিহীন থাকতে পারে না। আর এই চিন্তার বিষয় সে সংগ্রহ করে আমাদের পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় সহযোগে। তো ইন্দ্রিয় বাহিত বিষয় মনের মধ্যে চিন্তার উদ্রেগ করে। আর মনের মধ্যে উদিত এই চিন্তাই (যা আসলে আলোড়ন, বা তরঙ্গ বিশেষ ) আমাদের সূক্ষ্ম কর্ম্ম। স্থূল কর্ম্ম দৃশ্যমান, অর্থাৎ অন্যের গোচরীভূত হয়ে থাকে। কিন্তু সূক্ষ্ম কর্ম্ম স্বয়ংক্রিয়। সূক্ষ্ম কর্ম্ম অন্যের গোচরীভূত হয় না। সূক্ষ্ম কর্ম্ম বাহ্যত কোনো ফলও প্রদান করে না।
তাহলে আমার আবার কর্ম্ম কিসের ? আমার সঙ্গে কর্ম্মফলের যোগ কোথায় ? কারন এতদিনে আমার মধ্যে এই বোধ উৎপন্ন হয়েছে, যে আমি এই দেহ নোই, প্রাণ নোই এমনকি আমি মন, বুদ্ধি, চিত্ত, অহঙ্কার কোনোটাই নোই। আমি কেবলই শুদ্ধ চৈতন্য বিশেষ। আমার আবার কর্ম্ম বা কর্ম্মফল ভোগ করতে হবে কেন ?
আচার্য্য শঙ্করতাঁর বিবেক চূড়ামণি গ্রন্থে বলছেন (শ্লোক নং. ২৮০)
"নাহং জীবঃ পরং ব্রহ্ম ইতি অতৎ ব্যাবৃত্তি পূর্বকম।
বাসনা বেগতঃ প্রাপ্ত স্ব-অধ্যাস অপনয়ং কুরু। "
আমি জীব নোই, আমি পরম ব্রহ্ম এই চিন্তা দিয়ে অনাত্ম বস্তু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে, জন্ম জন্মান্তরের বাসনার প্রবাহে লব্ধ নিজের দেহাভিমান রূপ যে অধ্যাস, তাকে দূর করো।
জীব মাত্রেই দেহ দ্বারা আশ্রিত একটা অভিমান বিশেষ। অভিমান হচ্ছে এই দেহটাকে আমি মনে করা। সে না হয় বোঝা গেলো, যে আমি দেহ নোই। কিন্তু আমি বলে একটা কিছু তো আছে - যে এই দেহকে আমি বা আমার বলে মনে করছে। এই আমি যেমন আমার শৈশবে, যৌবনে, এমনকি আজ এই বৃদ্ধাবস্থায় বিরাজ করছে তেমনি এই আমি আমার এই শরীরের মৃত্যুর পরেও বেঁচে থাকবো। এই আমি কে ? তাকে কি করে বোধে আনবো ? তার স্বরূপ সম্পর্কে কিভাবে জানবো। আর কেই বা জানবে ? এই জ্ঞাতা কে, যে স্বরূপের উপলব্ধি বা আত্মজ্ঞান লাভ করতে চায় ?
আচার্য্যদেব বলছেন, "বাসনা বেগতঃ প্রাপ্ত স্ব-অধ্যাস অপনয়ং কুরু। " বাসনা তাড়িত হয়ে আমি আমার উপরে অনেক অধ্যাস চাপিয়েছি। অর্থাৎ আমি এই দেহ, মন, ইত্যাদি এই অজ্ঞানবোধ আমাকে ভর করেছে। এই আবরণ দূর করবো কি করে ?
আচার্য্যদেব নির্দেশ করছেন, জন্ম-জন্মান্তরের যে ভাবনা আমাকে ঘিরে রেখেছে, অর্থাৎ আমি জীব, আমি দেহ, আমি মন ইত্যাদি একে ত্যাগ করতে হবে। আর এটি করবার জন্য একটা সহজ উপায় হচ্ছে, বারবার নিজের মধ্যে চিন্তার উদয় ঘটাতে হবে, যে "নাহং জীবং" আমি জীব নোই। এখন কথা হচ্ছে আমি জীব নোই, এটা না হয় মেনে নিলাম, কিন্তু তাহলে আমি কে ? জগৎগুরু আচার্য্য শঙ্কর বলছেন, "আমি পরম ব্রহ্ম" এই চিন্তা মনের মধ্যে রেখে দেহাত্মবোধকে সর্বতঃ পরিত্যাগ করতে হবে। নিজেকে বার বার মনে করিয়ে দিতে হবে, যে আমি পরম ব্রহ্ম, অহং ব্রহ্মাস্মি। আমি নিত্য, মুক্ত, শুদ্ধ চৈতন্য।
চলবে
২৬-০২-২০২৫
সত্য কি ? "তত্ত্বমসি"
প্রাণশক্তি যেমন জীবের জীবন ধারনের কারন, তেমনি চৈতন্য আমাদের সমস্ত বোধশক্তির কারন। এক বস্তুতে অন্য বস্তুর জ্ঞান আরোপ - একে বলে অধ্যাস। তো শুদ্ধ চৈতন্য স্বরূপ আমার উপরে দেহাত্মবোধ আরোপ করা হয়েছে। এটাকে আমি মেনে নেবো কেন ? আর এই অজ্ঞান থেকেই যত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। আমি কখনো দরিদ্র, কখনো ধনী কখনো মূর্খ, কখনো পণ্ডিত হয়েছি। কখনও সুস্থ কখনও অসুস্থ হয়েছি । এখান থেকে আমাকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমি আমার নাম দিয়েছি মানুষ। আর এই মানুষের মধ্যেই আছে মনন করবার শক্তি। আমার আছে একটা মন, আমি চিন্তা করতে পারি, আমার আছে বুদ্ধি, আমি বিচার করতে পারি। আমি কর্ম্মচঞ্চল হয়ে ইতস্তত ঘোরাফেরা করে চলেছি। আর ফল হচ্ছে দিনের শেষে আমি ক্লান্ত শরীরে বিছানায় লুটিয়ে পড়ছি। আমি আমার বাইরে জগৎকে দেখছি। আর এই জগতের সঙ্গে আমার আদান-প্রদান চলছে। অসীম আত্মা এই দেহে আবদ্ধ হয়ে জীব নামধেয় হয়েছে। দেহ-অভিমানী এই আত্মাকেই বলে জীবাত্মা। আর যিনি দেহ-অভিমানী নন তিনি পরমাত্মা। তো আমি আসলে জীব নোই, আমি দেহাভিমানী হয়ে জীবরূপে কালের প্রবাহে ভেসে চলেছি। এখান থেকে আমাকে বের হতে হবে। কিন্তু কিভাবে ? আমাকে এই দেহ ছেড়ে স্বরূপে স্থিত হতে হবে। আমাকে আত্মজ্ঞানী হতে হবে। আমি নিত্য, তাই এই অনিত্য বস্তুগুলো থেকে নিজেকে আলাদা করতে হবে। এখন কথা হচ্ছে এই অনিত্য বস্তু থেকে নিজেকে আলাদা করবো কি করে ? আচার্য্য শঙ্কর বলছেন, " বাসনা বেগতঃ প্রাপ্ত স্বাধ্যাস অপনয়ং কুরু" -(শ্লোক ২৮০) বাসনা তাড়িত হয়ে নিজের উপরে নিজেই যে অধ্যাস চাপিয়েছি, তাকে ছেড়ে দিতে হবে। নিজেকে বারংবার স্মরণ করতে হবে, "নাহং জীবঃ" - আমি জীব নোই। আবরনে আবদ্ধ হয়ে আমি জীবরূপ ধারণ করেছি। আমি তো রূপহীন, নিরাকার, নিঃসঙ্গ সর্ব্বব্যাপী চৈতন্য। নিজেকে এই কথা মনে করিয়ে দিতে হবে। "অহং ব্রহ্মস্মি"
.
কিন্তু সত্য হচ্ছে যতক্ষন আমার এই দেহবোধ না যাচ্ছে, ততক্ষন আমরা সব কিছু বুঝেও বুঝি না। জীবভাবকে অতিক্রম করে ব্রহ্মভাবে উপনীত হওয়াই সাধনা। ব্রহ্মসূত্র বলছে, "জন্মাদস্য যতঃ - অর্থাৎ যা থেকে সমস্ত
ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি হয়েছে, যাঁকে আশ্রয় করে লালিত হচ্ছে, এবং যে পরিণতির দিকে এই ব্রহ্মান্ড এগিয়ে চলেছে, তাকেই নাম দেওয়া হয়েছে ব্রহ্ম। আমি নিত্য, মুক্ত, শুদ্ধ চৈতন্য। সেই আমি সকলের মধ্যে অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন পাত্রে প্রতিফলিত হচ্ছে। যেন সূর্য্যকে জলের পাত্রে আবদ্ধ করা হয়েছে। আর সূর্য্য নিজেই ভুলে গেছে, সে সূর্যলোকের অধিপতি। তেমনি শুদ্ধ চৈতন্য সত্ত্বা দেহের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে দেহকে নিয়ে মেতে আছে। দেহের ভালো মন্দ নিয়ে সে ব্যতিব্যস্ত হচ্ছে। এই যে অজ্ঞতা একে দূর করতে গেলে, "তত্ত্বমস্যাদি বাক্যোত্থ - ব্রহ্মাত্মা একত্ব বোধতঃ" - অর্থাৎ তত্ত্বমসি ইত্যাদি মহাবাক্যের মধ্যে যে ব্রহ্ম ও আত্মার একত্ত্ব বোঝাচ্ছে এই বোধকে দৃঢ় করো।
মহাত্মাগণ বলছেন, জীবের মধ্যে যতক্ষন অহংভাব থাকবে, দেহটাকে আপন- ভেবে আচরণ করবে, ততক্ষন দুঃখের অবসান হবে না। আর এই ভুলের মাশুল হিসেবে, তাকে জন্ম-মৃত্যুর চক্রে আবর্তিত হতে হবে। ব্রহ্ম যেন ফাঁদে পরে গেছেন - ফাঁদটা কি না পঞ্চভূত। এই পঞ্চভূতের ফাঁদে পড়ে ব্রহ্ম নিজেই কাতর হয়ে পড়েছেন। আমাদের কাজ হচ্ছে মহাবাক্যের ধ্যান করা। তত্ত্বমসি - অহং ব্রহ্মাস্মি- তুহি ইত্যাদি মহাবাক্যের ধ্যান করতে হবে। সবার হৃদয়াকাশে এই তেজঃশক্তি মিটমিট করছে। তাকে হাতের মুঠোয় আনতে হবে। আর নিশ্চিতভাবে নিজের এই উজ্জ্বল সৎ-চিৎ-আনন্দকে উপলব্ধি করতে হবে। জ্ঞান হলে অজ্ঞান চলে যাবে, হাজার বছরের অন্ধকার একমুহূর্তে চলে যেতে পারে একটা দেশলাইকাঠির ঘর্ষনে। মহাত্মা গন বলছেন, দেহে আমাদের যে অহংবোধের ফলে অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে, তাকে দূর করতে হলে আমাদের জ্ঞানের আলো জ্বালতে হবে। শ্বাসের গমন নির্গমনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের স্মরণে আনতে হবে, তত্ত্বমসি - অহং ব্রহ্মাস্মি ইত্যাদি মহাবাক্য। এই দেহের সঙ্গেই ক্রিয়াশীল হয়েছে, মন-বুদ্ধি-চিত্ত-অহঙ্কার .এগুলোর নিরসন করতে হবে। নিরন্তর নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, আপন স্বরূপের কথা। এই জগৎ ব্রহ্ম বৈ কিছু নয়, আমি এই বিরাট ব্রহ্ম-পুরুষের মধ্যে স্থিত একটি ব্রহ্মকোষ মাত্র। আমাদের এই স্থূল শরীর যেমন অসংখ্য কোষের সমষ্টি - আর প্রত্যেকের একটা জীবনকাল আছে, স্বতন্ত্র অস্তিত্ত্ব আছে - কিন্তু সেই কোষ এই স্থূল শরীরের অংশ মাত্র। প্রতিনিয়ত অসংখ্য কোষের জন্ম হচ্ছে আবার তাদের ক্ষুদ্র জীবনকালের শেষে মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু আমি বেঁচে আছি। এই কোষসকল এই জীবদেহের বিশালত্ত্ব সম্পর্কে কিছুই জানবার অবকাশ পায় না। তেমনি বিরাট ব্রহ্মপুরুষের দেহের একটা কোষ মাত্র আমি। ব্রহ্মপুরুষের দেহে স্থিত হয়ে ব্রহ্মকে জানা তাই আমাদের পক্ষে শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব বললেও অত্যুক্তি হবে না। তথাপি এই প্রয়াসকে জারি রাখতে হবে। এটুকু অন্তত আমাদের উপল্বদ্ধিতে যেন আসে, যে আমরা সবাই সেই পরমপুরুষের অতিক্ষুদ্র অংশ বিশেষ। আমরা সেই পরমাত্মাকে আশ্রয় করে, তাঁরই মধ্যে জীবন অতিবাহিত করছি। অন্তিমেও তাঁরই মধ্যে বিলীন হয়ে যাবো।
চলবে।...
০১.০৩.২০২৫
সত্য কি ? "তত্ত্বমসি"
কথা হচ্ছে অজ্ঞান দূর হবে কি করে ? আমাদের এই যে দেহাভিমান তা যাবে কি করে ? আমরা খেলছি, হাসছি, কাঁদছি, আবার সুখ-দুঃখের আস্বাদ গ্রহণ করছি। আমাদের ক্ষুধা পেলে কষ্ট হয়, আবার খাবার খেলে তৃপ্তি হয়, বা দুঃখ দূর হয়। এতো সত্য। এই সত্যকে অস্বীকার করি কি করে ?
মহাত্মা বলছেন, যতক্ষন তোমার দেহবোধ আছে, যতক্ষন তোমার কাছে জীব-জগতের অস্তিত্ত্ব আছে, ততক্ষন তোমার মধ্যে সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, ভালো, মন্দ আছে। ততক্ষন ঔষধ খেলে আমাদের ব্যাথা চলে যায়, আঘাত খেলে ব্যাথা পাবে। তুমি শাস্ত্র পড়ে পণ্ডিত হবে। আবার না পড়লে মূর্খ হবে। কিন্তু জানবে, যে রসোগোল্লাকে তুমি প্লেটের উপরে দেখেছিলে, তোমার লোভ হয়েছিল, তুমি খেয়ে তৃপ্তির হাসি হেসেছিলে, সেই রসোগোল্লা একসময় তোমার মুখ হয়ে গলা বেয়ে যখন পেটে চলে গেলো, তখন সেই রসোগোল্লা আর তোমার মধ্যে কোনো পার্থক্য রইলো না। তখন রসোগোল্লাও যা আমিও তাই। আপেল যতক্ষন গাছে ততক্ষন সে আলাদা, কিন্তু সেই আপেল যখন আমাদের পেটের মধ্যে তখন আপেলের স্বতন্ত্র অস্তিত্ত্ব থাকলো না। আপেল তখন আমার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে আমি হয়ে গেলো। একসময় হয়তো সে মল আকারে বেরিয়ে গেলো।
তো জগৎ আর তোমার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তুমিই জগৎ - তোমাতেই জগৎ। এই সত্যকে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার চেষ্টা করো। তুমি আর তোমার জগৎ আলাদা নয়। এখন অনুভব করবার চেষ্টা করো - শাস্ত্রের জ্ঞান নয়, অন্তরের উপল্বদ্ধিই সত্য। সতর্ক হও - যাকে তুই আলাদা ভাবছো, সে আলাদা নয়। যাকে তুমি বাইরে ভাবছো, সে একসময় তোমার মধ্যেই ছিল, তোমার মধ্যেই বিচরণ করছিলো, আবার তোমার থেকে বেরিয়েও যাবে। এই পরিণতি উপলব্ধি করবার চেষ্টা করো।
রসোগোল্লা, যাকে তুমি গলাধঃকরণ করেছিলে, সেই রসোগোল্লা পরিণতি প্রাপ্ত হয়ে, তোমার মধ্যে থেকে একদিন না একদিন মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাবে, যাবেই। কাউকেই তুমি পরিণতির হাত থেকে নিস্তার দেবে না। তো অধ্যাস শুরু করো। যাকে ধরেছো, তাকে ছেড়ে দাও, আর স্বরুপে স্থিত হও। তুমিই ব্রহ্ম - এই চিন্তা মনের মধ্যে দৃঢ় করো. তুমি নিত্যকে ধরো, আর অনিত্যকে ছেড়ে দাও।
আসলে জীবজগতের উপস্থিতির এই যে জ্ঞান, তা অজ্ঞান। সত্য একটাই - সত্য কখনো দুই হতে পারে না। তুমি এককে ধরো। তোমার মধ্যে এই যে জগৎ-জ্ঞানের আভাস, এটি স্বপ্ন বৈ কিছু নয়। তোমার নিদ্রা যখন ভেঙে যাবে, তোমার অজ্ঞান তখন কেটে যাবে। যাকিছু জগৎ বলে মনে করছো, তাতো স্বপ্নে দেখা জগৎ ছাড়া কিছু নয়। স্বপ্ন ভেঙে যখন তুমি জেগে উঠবে, তখন এই স্বপ্নের জগতের অবলুপ্তি হবে। এমনকি তোমার যখন দেহত্যাগ বা মৃত্যুর পরে, জগৎ-বোধের অবসান হবে, তখন তুমি জগৎ-ক্রিয়া রোহিত হবে। কিন্তু মনোময় শরীরে যেমন স্বপ্নের জগতে বিচরণ করো, কামনা-বাসনার উৎস এই মন তখনও কল্পিত জগতের মধ্যেই বিচরণ করবে। আর তুমি সুখ-দুঃখ-কষ্ট -যন্ত্রনা-হাসি-কান্না নিয়ে সেই কল্পিত জগতে বিচরণ করবে, মনোময় শরীরে । জন্ম-জন্মান্তর ধরে তাই তুমি কেবল জগতের বাসিন্দাই হয়ে থাকবে। স্থূল দেহ ত্যাগের পরেও, এই অজ্ঞান দূর হবে না। আমাদের যে তিনটে শরীর অর্থাৎ স্থূল, সূক্ষ্ম, ও কারন - তার মধ্যে তথা কথিত মৃত্যুতে কেবল মাত্র স্থূল দেহের নাশ হয়, বাকি দুটো দেহ অর্থাৎ সূক্ষ্ম ও কারন দেহে আমরা অবস্থান করি।
তো স্থূল, সূক্ষ্ম, এমনকি কারন দেহ থেকেও আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তোমার দেহ, তোমার মন, তোমার ব্যক্তিসত্তা, যেটা শুদ্ধ আত্মার উপরে কুয়াশার মতো ঢেকে রেখেছে, সেখানে থেকে বেরিয়ে নিজেকে প্রকাশিত করো। নিরন্তর এই প্রয়াস চালিয়ে যাও। আচার্য্য শংকর বলছেন, "স্বাধ্যাস অপনয়ং কুরু". নিজের উপরে নিজেরই দ্বারা আরোপিত অজ্ঞানকে দূরীভূত করো। এই অজ্ঞান দূরীভূত হয়ে গেলে তুমি স্বরূপের জ্ঞানের অমৃতসাগরে ভাসবে। শুধু একবারটি ভাবো, যে অজ্ঞান তোমাকে ঢেকে রেখেছে, অর্থাৎ দেহ-মন-বুদ্ধি-অহংকার-জীব-জগৎ ইত্যাদি যাকে তুমি সত্য বলে ভাবছো, তা আমার অজ্ঞানজনিত কারনে আভাসিত হচ্ছে। এটি সত্য নয়। এই অজ্ঞানকে দূরীভূত করে নিজের স্বরূপর জ্ঞান উপল্বদ্ধিতে আনবার জন্য নিরন্তর প্রয়াস করো।
তুমি সৎ, তুমি চিৎ, তুমি নিত্য, শুদ্ধ আত্মা - এই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হও। খাঁচার মধ্যে নিজেকে আটকে রেখো না। তোমার নিদ্রা ভেঙে যাক, স্বপ ভেঙে জেগে ওঠো। প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে এসো। নিজের দিকে তাকাও , দেখো তুমি কত সুন্দর - তুমি কত শক্তিশালী, তুমি কতো নির্ম্মল, তুমি আনন্দের সাগর। তোমার আবার আনন্দের অভাব হবে কেন ? তুমিই ব্রহ্ম, তুমিই ব্রহ্মজ্ঞ, তুমিই জ্ঞাতা , তুমিই জ্ঞান, তুমিই জ্ঞেয়। তুমিই সব - তুমি ছাড়া কেউ কোথাও নেই। তো যেখানে দ্বৈত নেই, সেখানে কিসের ভয় ? তুমি নির্ভিক হয়ে নিশ্চিন্ত হও। জগৎ তোমার পিছনে পরে থাকুক, তুমি এগিয়ে চলো। তত্ত্বমসি।
চলবে।....
সত্য কি ? "তত্ত্বমসি"
সবাই বলছে, আমি আমি। , অমিকে ছাড়ো। আমিটাকে ছেড়ে দিলে আমার থাকলোটা কি ? আমি আছি তাই তো আমার আছে, নতুবা সবই শূন্য। আসলে আমিটাই আসল, আর সব পর। আমিটাই থাকে, আর সব চলে যায়। কিন্তু যাবে কি করে ? অন্নরূপে বাইরে যাকে দেখছি, তা আসলে আমি। মন রূপে যাকে ভিতরে যে অনুভব করছি, তাও আসলে আমি। আমি যদি না থাকি, তবে আমার বলে কিছুই আর থাকবে না। এমনকি আমার যে চিন্তা তাও থাকবে না, আমার যে ইচ্ছে, তাও আর থাকবে না। কিন্তু কথা হচ্ছে এই আমি টা কে ? আমি কি দেহ, না কি দেহে স্থিত কেউ ? আমিটা কি এই মন, যা আমার খাদ্যের সূক্ষ্ম নির্য্যাস মাত্র। অমিটা কি প্রাণ, যা আমাকে জীবন দান করছে ? মহাত্মাগণ বলছেন, এসব কিছুই নও, তুমি ব্রহ্ম, তুমি আত্মা, তুমিই চৈতন্য, তুমিই ভোক্তা, তুমিই ভোগ্য , তুমিই জ্ঞাতা , তুমিই জ্ঞেয় - আর সর্বোপরি তুমিই জ্ঞান - যা শাশ্বত - তুমিই চিরন্তন, তুমি অনন্ত, তুমি বিরাট, তুমি ক্ষুদ্র। তুমিই শুরু তুমিই শেষ। তুমি অশেষ। তুমি, তুমিই সব - তুমি ভিন্ন কিছু নেই। তুমি আছো তাই সবার উপস্থিতি, তোমার কারণেই এই প্রকৃতির খেলা, তোমার সন্তুষ্টির জন্য প্রকৃতির এই নাচ। তুমি দ্রষ্টা, তুমি সাক্ষী। তুমি তোমাতেই নিমগ্ন। তুমি তুমি তুমি। তত্ত্বমসি। তুমিই সেই পরম-সত্য।
মহাত্মাগণ বলছেন, তোমার মধ্যে যে দেহবুদ্ধি আছে, তাকে দুর করে দাও। না, দেহকে নয়, দেহাত্ম-বুদ্ধিকে ত্যাগ করতে হবে। তুমি যে পোশাকটা পরে আছো, তা তুমি নয়। এই পোশাক পুরোনো হয়ে গেলে, নতুন পোশাক পরতে হয়। তেমনি শরীর কর্ম্ম-ভোগের অযোগ্য হয়ে গেলে, অর্থাৎ শরীরের জীর্ন অবস্থায় আমি নতুন দেহের প্রত্যাশী হই। দেহ একটা অধ্যাস মাত্র যা আমাতে আরোপ করেছি। আসলে এই আমি সকলের আমি কিন্তু দেহের মধ্যে স্থিত হয়ে দেহটাকে আমি আমার ভেবে সকল থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র ভাবতে অভ্যস্থ হয়ে গেছি। এই অজ্ঞান, এই আজব ভাবনা আমাকে দূর করতে হবে। আচার্য্য শঙ্কর বলছেন তত্ত্বমসি ইত্যাদি বাক্যের পুনঃ পুনঃ স্মরণ করে আত্মজ্ঞান লাভ করো। আমিই ব্রহ্ম এই জ্ঞানে প্রতিষ্টিত হও।
কিন্তু কথা হচ্ছে দেহে স্থিত হয়ে আমি একটা রূপ-গুনের আধার হয়েছি। এই দেহের বিলোপে আমার সেই গুনের বিলুপ্তি হবে। আমি যে গায়ক, আমি যে লেখক, আমি যে সমাজ-সংস্কারক, আমি যে রাষ্ট্রনেতা, আমি যে পণ্ডিত হয়েছি, তার কি হবে ?
আমার কিশোর বয়সের একটা ঘটনার কথা বলি। এই ঘটনা আমাকে পাগল বানিয়ে দিয়েছিলো। সাধারণ থেকে আলাদা করে দিয়েছিলো। আমাদের দেহের গড়ন চিরকাল হালকা পাতলা। আর এর সুফল হিসেবে আমি বাঁদরের মতো গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়াতে পারতাম। পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ারা, আম গাছে উঠে আম, জাম গাছে উঠে জাম পেরে খেতাম। তো আমাদের গোয়াল ঘরের পাশে ছিল একটা জাম গাছ। একদিন দুপুরের কাঠফাঁটা রোদের মধ্যে জাম গাছের উপরে উঠে জাম পেরে খাচ্ছি। পা-টাকে লেজের মতো করে গাছের ডাল জড়িয়ে ধরে গাছের ডালের মাথা থেকে জাম পেরে খাচ্ছি। হঠাৎ কখন পায়ে জড়ানো ডাল ভেঙে আমাদের শরীর নিচে পরে গেছে, তা আমার হুশ নেই। আমি জাম গাছে, আর আমার দেহটি জাম গাছের নিচে সশব্দে পড়ে গেলো। আমি কিন্তু তখনও সেই জাম গাছেই আছি। অর্থাৎ আমার চেতনা, আমার মন যেন জাম গাছেই ঝুলছে। আর আমি লক্ষ করছি, একটা আঁকাবাঁকা আলোর রেখা, গাছের ডাল থেকে শরীর ছুঁয়ে দোল খাচ্ছে। গাছ থেকে কিছু পতনের শব্দ শুনে আমার মা-ভাই-বোন জাম গাছের নিচে দৌড়ে এসেছে, এই সঙ্গাহীন দেহের কাছে। আমি কিন্তু তখনও জাম গাছেই বসে আছি। মা আমার দেহকে কোলে তুলতেই, আমার সম্বিৎ এলো, আমি আলোর রেখা ধরে, নিচে নেমে দেহের মধ্যে প্রবেশ করলাম। মা আমাকে কোলে করে বাড়ির বারান্দায় নিজে এসে, চোখে জলের ছিটে দিতে লাগলো, আর হাউ-মাউ করে কান্না জুড়ে দিলো। মায়ের কান্না, আর চোখে জলের ছিটে, আমাদের শরীরে চেতনা ফিরিয়ে দিলো। এই ঘটনা আমার জীবনে একটা নতুন মোড় নিলো। আমি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেললাম। চেনা পরিবেশ আমার কাছে অচেনা বলে মনে হতে লাগলো। প্রায় বছর দেড়েক লেগেছিলো আমার এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। লোকে বলতো বাবু (ডাকনাম) পাগল হয়ে গেছে। এর ফলে আমার একবছর পড়াশুনা হয়নি। ধীরে ধীরে আমি আবার আমার পরিবার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। এই ঘটনা আমাকে এই বোধের জন্ম দিয়েছিলো, যে আমি ও আমার শরীর অবশ্যই আলাদা দুটো সত্ত্বা।
(অনেক কথাই তো হলো, এবার মৌন হবার সময় এসেছে। কথা ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এসেছে। শাস্ত্রগ্রন্থ পাঠের বুঝি বিরতি হলো। রান্না শেষ হতে চললো। এবার আস্বাদ নেবার সময় এসেছে। নিজের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেবার সময় এসেছে। না শরীর-মন কোনোটাই খারাপ নেই। আমি ভালোই আছি। মাঝে মধ্যে কারুর কারুর উস্কানিতে বুত্থিত অবস্থায় মুখ দিয়ে কথা এখনো বেরোয় বটে। আর তা লিপিবদ্ধ হয়ে পোষ্ট করা হয় বটে, তবে তাও অনিমিয়ত। সত্য যেন নিজেকেই নিজে প্রকাশ করছে। কথা তো ব্যক্তির নয়, ব্যাক্তিবিশের মাধ্যমে প্রকাশ হয় মাত্র। জ্ঞান তো বাইরের থেকে আসে না, জ্ঞান আসে নিজের ভিতর থেকে। যুক্তি তর্ক আশঙ্কা প্রশ্ন সব শেষ হয়েছে। এবার অনুভূতির মধ্যে জ্ঞানের প্রকাশ ঘটুক। মঙ্গলময় পরমপিতার কাছে প্রার্থনা, আপনারা সবাই ভালো থাকুন।)
চলবে।......
সত্য কি ? "তত্ত্বমসি"
এক রমতা সাধু যাত্রাপথের ক্লান্তি কাটাতে, এক প্রাসাদের সামনে এসে উপস্থিত হয়েছেন। জটাজুটো ধারী , অপরিচ্ছন্ন গেরুয়াধারীকে দেখে বাড়ীর মালিক বাইরে এলেন। বললেন আপনি কে ? এখানে দাঁড়িয়েছেন কেন ? রমতা সাধু বললেন, আমি আপনার অপরিচিত, কিন্তু আমি আপনাকে চিনি। আপনার এই পান্থশালায় আমি রাত্রিবাস করতে চাই। মালিক ভদ্রলোক বিরক্ত হয়ে বললেন, এটা কোনো পান্থশালা নয়, এটা আমার বাড়ী। এটা আমার বাপ্-ঠাকুরদার বাড়ী, এটা আমার বাড়ী । এটা কোনো যাত্রীনিবাস নয়। তো সাধু বললেন, তাই ? তাহলে তো এই বাড়ির মালিক আপনি নন। এটি আপনার বাবার ছিলো, তার আগে আপনার ঠাকুরদার ছিলো। তার আগে নিশ্চই দাদা-ঠাকুরের ছিলো। তবেতো এটা যাত্রীনিবাস বটে। আপনার অবর্তমানে, এখানে আপনার ছেলে-মেয়েরা থাকবে। অতীতে হয়তো আমিও থাকতাম। আজ আমি ঘরছাড়া রমতা হয়েছি।
Comments
Post a Comment