Posts

Showing posts from July, 2022

আত্মা কেন শরীরে থাকে ? ঈশ্বরকে দেখেছেন ? প্রার্থনায় কি কোনো কাজ হয় ?

 আত্মা কেন শরীরে থাকে ?  আত্মা ভিন্ন শরীর নিষ্ক্রিয়। এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু এই প্রশ্ন কি কখনো আমাদের মনে জেগেছে, যে আত্মা কেন শরীরে থাকে ? এই ছিষ্টিছাড়া প্রশ্নের জবাব খুজবো আজ আমরা।  এই প্রশ্নের জবাব পেতে গেলে, আমাদের আগে বুঝে নিতে হবে, দেহ কি আর আত্মাই বা কি ? দেহবলা হয়ে থাকে কর্ম্ম থেকে দেহ সঞ্জাত। কর্ম্ম থেকেই নানান ধরনের দেহ উৎপন্ন হচ্ছে। তো কর্ম্ম থেকে যেমন শরীর ঠিক তেমনি কর্ম্মের জন্যই শরীর। শরীর ব্যাতিত কর্ম্ম সম্পাদন করা যায়  না।  আবার কর্ম্মহীন শরীর বলে কিছু হয় না।  অর্থাৎ শরীর ব্যাতিত কর্ম্ম করা যায় না, আবার শরীর না থাকলে ভোগাদি সম্পন্ন হতে পারে না। বলা হয়ে থাকে প্রারব্ধ কর্ম্মফল ভোগ করবার জন্য আমরা দেহ ধারণ করে থাকি। যতদিন ভোগ সম্পন্ন না হয়, ততদিন আমাদের শরীর  ধারণ করতে হয়।  ভোগ শেষ হয়ে গেলে, আমাদের শরীর ছেড়ে দিতে হয়। প্রারব্ধ কর্ম্মফল তিনটি একটা হচ্ছে জাতি। জাতি অর্থে মনুষ্য একটি জাতি, গরু একটা জাতি, কাক একটা জাতি, পাখি একটা জাতির সমষ্টি, পশু একটা জাতির সমষ্টি । এই জাতির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হচ্ছে জন্ম, আবার সম্পর্কে...

শব্দ ব্রহ্মের সাধনা

সাধনজগতের কিছু গুহ্যতত্ত্ব -  তত্ত্বের সাধনা। মাণ্ডূক্য উপনিষদ।   ভারতের প্রাচীন মুনি ঋষিগণ উপনিষদের মাধ্যমে বলছেন শব্দব্রহ্ম-সাধনা বা ওঙ্কারের সাধনা  সর্ব্বোৎকৃষ্ট। এই শব্দ ব্রহ্মের সাধনা কেন সর্ব্বশ্রেষ্ট, আর কিভাবেই বা আমরা তা করতে পারি, সে সম্পর্কে আজ থেকে আমরা শুনবো।  প্রথমেই বলি, আমাদের শরীর, এমনকি এই যে জগৎ তা পঞ্চতত্ত্বের সমাহার।  আর তা হচ্ছে ক্ষিতি-অপ-তেজ-মরুৎ-ব্যোম। আর এগুলোর নিজস্ব গুন্ হচ্ছে - গন্ধ, রস, রূপ, স্পর্শ, শব্দ। অর্থাৎ আকাশের গুন্ হচ্ছে, শব্দ, বাতাসের গুন্ হচ্ছে স্পর্শ, অগ্নি বা তেজের গুন্ হচ্ছে রূপ, জলের গুন্ হচ্ছে রস, আর ক্ষিতির গুন্ হচ্ছে গন্ধ। এই কথাগুলোর মধ্যে নতুনত্ব কিছু নেই।  এসব আমরা সবাই জানি।  কিন্তু আমাদের যে বাহ্যিক সাধনক্রিয়া তাও এই তত্ত্বানুসারী।  অর্থাৎ পাঁচ প্রকার। যেমন - ১. আমরা মাটি বা পাথরের পুজো করে থাকি। যা আসলে পৃথ্বীতত্ত্বের  । ২. আমরা যে গঙ্গার, যমুনার, সরস্বতী, সিন্ধু,কাবেরী, নর্মদার, ইত্যাদির পূজা করি, তা আসলে অপ তত্ত্বের সাধনা। ৩. আমরা যে চন্দ্র সূর্য তারকা রাজির পুজো করি, ...

ঈশ্বরের সান্নিধ্য বা শান্তি কিভাবে পাবেন ?

  ঈশ্বরের সান্নিধ্য বা শান্তি  কিভাবে পাবেন ?  এক যুদ্ধবাজ রাজা ছিলেন। তিনি তার  রাজ্যের সমস্ত পুরুষকে  সেনাবাহিনীতে যোগ দেবার জন্য ফতেয়া  জারি করেছেন।  তো সমস্ত পুরুষ-মহিলাদের   মধ্যে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো । এতে করে সমস্ত পুরুষের সাথে তাদের পিতা-মাতা ভাই-বোন সবাই   আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে উঠলেন। কে জানে যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন কি না, তাদের আদরের  সন্তান, তাদের আদরের ভাই, তাদের আশ্রয়দাতা পিতা, তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের সম্বল । তারা  তাদের সমস্ত পুরুষকে  বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে রাখতে লাগলেন। এদিকে রাজকর্ম্মচারীগণ পাড়ায় পাড়ায় টহল  দিয়ে পুরুষকে  জোর করে ধরে এনে যুদ্ধে পাঠাতে লাগলেন। সমস্ত রাজ্যের মধ্যে একটা ত্রাহি ত্রাহি রব শুরু হলো। রাজকর্ম্মচারী দেখলেই, সবাই গলির মধ্যে লুকিয়ে পড়তে লাগলো। তো এক সাধুপুরুষ রাস্তার ফুটপাতে শুয়ে পায়ের উপরে পা তুলে দিয়ে হাত তালি দিয়ে গান গাইছিলো। রাজকর্ম্মচারীরা এসে তাকে শুধালো, তুমি কি জানোনা, রাজার আদেশ ? চারিদিকে...

দুশ্চিন্তাহীন আনন্দময় জীবন

Image
  দুশ্চিন্তা কাটিয়ে কিভাবে আনন্দে থাকবো।  দুশ্চিন্তাহীন আনন্দময় জীবন  মন একটা অদ্ভুত যন্ত্র, যা আমাদের শরীরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়ে আছে।  এই মনের সাহায্যেই নাকি  জাগতিক সমস্ত বস্তু থেকে শুরু করে স্বয়ং ভগবানকে পাওয়া যায়। যা আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দ এনে দিতে পারে। তা সে বিষয়-আনন্দ  বলুন আর স্বর্গীয় আনন্দ বলুন।  জীবন হতে পারে, এক আনন্দ সাগর। আবার এই মনের মধ্যেই ভিড় করে থাকে ভয়. যা আমাদের জীবনকে বিষিয়ে দিতে পারে।  এই মনের মধ্যেই জমা হয়, রাগ, ঘৃণা, দ্বেষ ইত্যাদি। যা আমাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে দিতে পারে। তো একটা মানুষের  মনের অসীম শক্তি যা মানুষকে আনন্দ এনে দিতে পারে, আবার এই মনই মানুষের জীবনকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে। তো কারুর মনে যদি আনন্দ থাকে তবে সে যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, তার মতো সুখী মানুষ আর কে আছে পৃথিবীতে। হোক না সে গরিব, হোক না অশিক্ষিত, হোক না সে গরিব ভারতবাসী, মনে যার শান্তি আছে, তার জীবন সার্থক। বড় বার সে ফিরে ফিরে আস্তে চায়, এই পৃথিবীর বুকে।  বলা হয়ে থাকে এই মনের সামান্যতম শক্তি আমরা ব্যবহার করতে ...