Posts

Showing posts from October, 2024

ভগবৎ কৃপা লাভের উপায়

অহেতুক ভগবৎ কৃপা লাভের উপায় প্রথমে আমরা একটু বুঝে নেই, ভগবৎ  কৃপা বলতে আমরা কি বুঝি ? ভগবৎ  কৃপা হচ্ছে এমন কিছু শুভ বা মঙ্গলকর ঘটনা  যার আপাত দৃষ্টিতে  কোনো কারন খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা উদাহরনের সাহায্যে আমরা ব্যাপারটা একটু বুঝে নেই।   একটু কল্পনা করুন। চাঁদি ফাটা রোগ চারিদিকে। আপনাকে গঙ্গা স্নানে যেতে হবে, প্রায় আধামাইল দূরে। আপনি হাততালি দিয়ে কীর্ত্তন করতে করতে চলছেন, আর এক টুকরো মেঘ আপনার মাথার উপরে ছায়া দিতে দিতে আপনার সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। আপনি জানতেও পারেননি, কে আপনাকে প্রখর রোদ  থেকে বাঁচিয়ে গঙ্গাঘাটে পৌঁছে দিলো।  কপোত  কপতি গাছের ডালে বসে একজন আরেকজনের ঠোঁট চেটে দিচ্ছিলো।  অন্যদিকে এক শিকারী তীর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলো। ঠিক যখন শিকারী তীর ছুড়তে যাবে তখন হঠাৎ তার হাতটা কেঁপে উঠলো, আর তীরটা লক্ষভ্রষ্ট হলো। আসলে একটা পিঁপড়ে তার পায়ে কামড় দিয়েছে। আর সমস্ত শরীরটা তার কেঁপে উঠেছে। পিঁপড়েটা শিকারীর হাতের চেপটাঘাতে মারা গেলো, বটে কিন্তু  বেঁচে গেলো পাখিদুটো।  এই হচ্ছে ভগবৎ কৃপা, যা বলতে গেলে অকারনে ঘটে থাকে। যার  জন্...

বেদের সার বেদান্ত।

Image
বেদের সার বেদান্ত। ব্রহ্মসূত্র  ভূমিকা :  সনাতন হিন্দু ধর্ম্মের আদি ও অকৃত্তিম গ্রন্থবিশেষ হচ্ছে বেদ। এ এক অদ্ভুত বিষ্ময়কর গ্রন্থ। বলা হয়, আপনার যা কিছুর  অভাব, তা সে লৌকিক হোক বা পারলৌকিক  তার সমাধানের উপায় বলা আছে, এই গ্রন্থে। আপনার ইষ্টপ্রাপ্তি বা অনিষ্ট পরিহারের অলৌকিক সব উপায় সম্পর্কে বলা আছে এই "বেদ" নামক গ্রন্থে। বস্তুত শব্দ-আশ্রিত  অনাদি অনন্ত জ্ঞানের ভান্ডার হচ্ছে  এই  গ্রন্থ।  বলা হয়, জীবের শ্বাস প্রশ্বাস যেমন অকারনেই বইতে শুরু করে তেমনি পরমেশ্বরের নিঃশাসের সঙ্গে এই জ্ঞান  বিনা প্রযত্নে অভিব্যক্ত হতে শুরু করে। মহাপ্রলয়ের পরে যখন আবার নবকল্পে নব কলেবরে এই জগতের সৃষ্টি হলো, তখন সৃষ্টিকর্ত্তা হিরণ্যগর্ভ  ব্রহ্মার স্মৃতিতে প্রথম উদয় হয় এই জ্ঞান। বলা হয়, স্মৃতিপটে উদিত হবার আগে এই জ্ঞানভাণ্ডার  সূক্ষ্মরূপে পরমেশ্বরীর শক্তিতে বিলীন ছিল। হিরণ্যগর্ভ  ব্রহ্মা থেকে এই জ্ঞান বর্ণাত্মক বৈখরীরূপ পরিগ্রহ করে। প্রথমে এই জ্ঞান ছিল কেবলমাত্র অনুভবের মধ্যে। এর বাহ্যপ্রকাশ ছিল না। এই জ্ঞানের মধ্যেই ছিল সৃষ্টিক্রম, যাঁকে  আশ্রয় করে ...