ভগবৎ কৃপা লাভের উপায়
অহেতুক ভগবৎ কৃপা লাভের উপায়
প্রথমে আমরা একটু বুঝে নেই, ভগবৎ কৃপা বলতে আমরা কি বুঝি ? ভগবৎ কৃপা হচ্ছে এমন কিছু শুভ বা মঙ্গলকর ঘটনা যার আপাত দৃষ্টিতে কোনো কারন খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা উদাহরনের সাহায্যে আমরা ব্যাপারটা একটু বুঝে নেই।
একটু কল্পনা করুন। চাঁদি ফাটা রোগ চারিদিকে। আপনাকে গঙ্গা স্নানে যেতে হবে, প্রায় আধামাইল দূরে। আপনি হাততালি দিয়ে কীর্ত্তন করতে করতে চলছেন, আর এক টুকরো মেঘ আপনার মাথার উপরে ছায়া দিতে দিতে আপনার সঙ্গে সঙ্গে চলেছে। আপনি জানতেও পারেননি, কে আপনাকে প্রখর রোদ থেকে বাঁচিয়ে গঙ্গাঘাটে পৌঁছে দিলো।
কপোত কপতি গাছের ডালে বসে একজন আরেকজনের ঠোঁট চেটে দিচ্ছিলো। অন্যদিকে এক শিকারী তীর নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলো। ঠিক যখন শিকারী তীর ছুড়তে যাবে তখন হঠাৎ তার হাতটা কেঁপে উঠলো, আর তীরটা লক্ষভ্রষ্ট হলো। আসলে একটা পিঁপড়ে তার পায়ে কামড় দিয়েছে। আর সমস্ত শরীরটা তার কেঁপে উঠেছে। পিঁপড়েটা শিকারীর হাতের চেপটাঘাতে মারা গেলো, বটে কিন্তু বেঁচে গেলো পাখিদুটো। এই হচ্ছে ভগবৎ কৃপা, যা বলতে গেলে অকারনে ঘটে থাকে। যার জন্য আমাদের আলাদা করে কিছু করতে হয় না। কেবল অহংকে ত্যাগ করে ভগবৎ চরণে আত্মসমর্পনের দ্বারাই হতে পারে। এর কোনো ব্যাখ্যা হয় না। একে আপনি বিচার বিশ্লেষণ করতে যাবেন না।
আমরা সবাই ভালো থাকতে চাই। কিন্তু চিরদিন কেউ ভালো থাকতে পারি না। এমনকি আমরা যখন ঐশ্বর্যের মধ্যে বা প্রাচুর্য্যের মধ্যে সুখে স্বাচ্ছন্দে থাকি, তখনও আমাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ, একটা ভয় কাজ করে, মনের মধ্যে দুশ্চিন্তা কাঁটার মতো বিঁধতে থাকে, এই বুঝি কোনো বিপদ হলো। ভবিষ্যতের কাল্পনিক দুরাবস্থার কথা ভেবে ভেবে আমরা সারা হয়ে যাই। এছাড়া, মৃত্যুভয় আমাদের প্রতিনিয়ত তারা করে নিয়ে বেড়ায়। আর এই সব উদ্বেগ থেকে বাঁচাবার জন্য, আমরা নানান রকম সুরক্ষার বেড়াজাল আমাদের চারিদিকে রচনা করি। আর এই যে সুরক্ষার বেড়া, তা একসময় ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। আমরা শারীরিক রোগ থেকে বাঁচার জন্য মেডিকেল ইন্সুরেন্স করি, কিন্তু আমরা রোগ থেকে বাঁচতে পারি না। আমাদের ভবিষ্যৎ সুখের জন্য সঞ্চয় করি - কিন্তু অভাব বোধ আমাদের ঘোঁচে না। মৃত্যু থেকে বাঁচার জন্য, আমরা নানান কসরৎ করি, কিন্তু মৃত্যু আমাদের পিছু ছাড়ে না। ভগবৎ কৃপা হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা আমাদেরকে এই সব কিছু থেকে দূরে রাখতে পারে।
এখন কথা হচ্ছে ভগবৎ সত্ত্বায় যারা বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেননি, তারা কেন এই ভগবৎ কৃপার জন্য আগ্রহী হবেন ? তাদের কথায়, ভগবান এমন একটা কাল্পনিক বিষয় যা কারুর দৃষ্টিগোচর হয়নি কখনো। এমনকি এই ভগবানকে কেউ কখনো স্বপ্নেও দেখেনি। না ভগবানকে কেউ কখনো দেখেছেন, না কাউকে কেউ দেখাতে পারেন। ভগবান হিসেবে একটা কাল্পনিক অবাস্তব সত্ত্বার কথা ভাবা হয়েছে, যিনি সর্ব্বশক্তিমান, যিনি এই সমস্ত সৃষ্টির কর্ত্তা। এই কাল্পনিক ভগবানকেই সমস্ত সৃষ্টির ক্রীড়ানক হিসেবে ধরা হয়েছে। তিনিই এই সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের কর্ত্তা। তিনিই সৃষ্টি করছেন, তিনিই রক্ষা করছেন, আবার তিনিই লয় করছেন। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি, আমাদের কর্ম্মই এই সৃষ্টিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। শূন্য থেকে আমরা কিছু সৃষ্টি হতে দেখি না। মাতা-পিতা থেকেই সন্তানের জন্ম হয়ে থাকে - তথাকথিত ভগবান থেকে নয়। আর তাই যদি হয়, তবে বলা যেতে পারে, আমাদের কর্ম্মই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিণতির কারন। আর প্রকৃতি এই কাজের সহায়ক। এই জগৎ প্রকৃতির দান ছাড়া কিছু নয়। প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে নিজের মধ্যে এই সৃষ্টি - স্থিতি- লয়ের খেলা করে চলেছেন । আর এই প্রকৃতি তার নিয়মের বাইরে কখনো কিছুই করেন না। প্রতিটি জীবদেহের জীবলীলা নির্দিষ্ট থাকে। এই পরিধির বাইরে কেউ যেতে পারে না। মানুষ তথাকথিত ঈশ্বরের কৃপায় প্রকৃতির নিয়মের বাইরে যেতে পারে না। মানুষ কখনো হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারে না। মানুষ কখনও না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে না। মানুষ কখনো হাজারফুট লম্বা হতে পারে না। প্রকৃতির রাজত্বে সব কিছুই নিয়মে বাঁধা - এর বাইরে কেউ নয় - না পণ্ডিত না মূর্খ, না ভক্ত না অভক্ত, না আস্তিক না নাস্তিক, কেউই প্রকৃতির নিয়মের বাইরে নয়। তাই আমাদের উচিত প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলা।
এখন কথা হচ্ছে, তাই যদি হয়, তবে ভগবৎ কৃপা আমাদের কিভাবে উপকার হতে পারে ?
দেখুন এই যে জগৎ তা কেবল প্রকৃতি নয়, এই জগৎ দুটি সত্ত্বার মিশ্রণ। একটা প্রকৃতি, আরেকটা পুরুষ। প্রকৃতি ও পুরুষ ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। একটা স্থির, আরেকটা গতিশীল। গতিশীল প্রকৃতি নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ। প্রকৃতিতে নিয়ম বিরুদ্ধ কিছু হয় না। কিন্তু পুরুষ স্থির আর ইনি নিয়মের অধীন নয়। একটা বাহ্য সত্ত্বা, আরেকটা অন্তরসত্ত্বা। একটা কেন্দ্র, আরেকটা পরিধি। একটা পরিবর্তনশীল আরেকটা অপরিবর্তনীয়। একটা গতিশীল আরেকটা স্থির। এই যে স্থির সত্ত্বা এর কোনো পরিবর্ত্তন নেই। এটি যেমন ক্ষুদ্রাতীত ক্ষুদ্র, তেমনি বৃহৎ থেকে বৃহত্তর। প্রকৃতি সীমার মধ্যে আবদ্ধ সীমানার মধ্যে গতিশীল। কিন্তু পুরুষ সীমাহীন অনন্ত। জীবজগৎ পুরুষ সত্ত্বাকে কেন্দ্রীভূত করে ঘুরপাক খাচ্ছে। বহিরসত্ত্বা প্রতিনিয়ত পরিবর্ত্তন হচ্ছে, আর অন্তরসত্ত্বা অপরিবর্তনীয়। তো ভগবৎ সত্ত্বা বলে ঋষিপুরুষগন যাঁকে নির্দিষ্ট করেছেন, তিনি এই পুরুষ সত্ত্বা। প্রকৃতি যেমন নিয়মের মধ্যে জগতের পালন-পোষন করছেন, তেমনি পুরুষ সত্ত্বা নিয়মের নির্ধারক হয়ে নির্বিকার হয়ে অবস্থান করছেন। পুরুষ দ্রষ্টা, আর প্রকৃতি দৃশ্য।
এই যে "আমি" অর্থাৎ যিনি দেখছেন, তিনি আসলে সেই দ্রষ্টা, আর আমার দেহাদি-সহ বাহ্য জগৎ হচ্ছে দৃশ্য। যাকে দেখা যায় তা দৃশ্য, যিনি দেখেন তিনি দ্রষ্টা। তো এই দ্রষ্টাকে কখনও দেখা যায় না। কারন দ্রষ্টাকে যখনই কেউ দেখতে যাবেন, তখন তিনি নিজেই দ্রষ্টা হয়ে যাবেন। তো আমরা যা কিছু দেখছি, তা প্রকৃতি অর্থাৎ দৃশ্যমাত্র। আর এই দৃশ্য প্রতিক্ষনে পরিবর্তন হয়ে চলেছে।
এর পরেও যারা ভাগবত সত্ত্বায় বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবেন না, তারা দৈব কৃপার কথা নাই বা ভাবলেন। আমাদের কথা নাইবা শুনলেন। প্রশ্ন তো থাকবেই - প্রশ্ন না জাগলে উত্তর আসবে কোত্থেকে ?
যাইহোক, আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ভগবৎ কৃপা। কিভাবে লাভ করা যায়। আসলে ভগবৎ বিশ্বাসী মানুষের হৃদয়, যুগযুগ ধরে একটা নিরাপত্তা, একটা সহজ প্রশান্তি অনুভব করে চলেছে । আবার সন্দেহ প্রবন মন বারংবার প্রশ্ন করেছে - ভগবৎ কৃপা বলে সত্যিই কি কিছু আছে ? মাঝে মধ্যে মনে হয়, আমাদের জীবনে যা কিছু ঘটে তা কি উদ্দেশ্যবিহীন দুর্ঘটনামাত্র, নাকি সব ঘটনার পিছনে একটা কারন আছে, একটা উদ্দেশ্য আছে ?
আসলে ব্যাপারটা কি জানেন ভগবৎ কৃপা ক্ষনিকের জন্য বিদ্যুৎ ঝলকের মতো ভেসে ওঠে আবার মিলিয়ে যায়। আমরা একে ধরতে পারি না। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছেন, যার কাছে দিব্য করুণা প্রতিক্ষনে, প্রতিক্ষেত্রে বিরামহীনভাবে ঘটে চলেছে। ভাষায় এর মহিমা ব্যক্ত করা যায় না। এমনকি বিচার বুদ্ধি দিয়েও এর ব্যাখ্যা মেলে না। তথাপি সন্দেহপ্রবন মনে প্রশ্ন তো থেকেই যায়, যে ভগবানের কৃপাই যদি জগতে ক্রিয়াশীল তবে মানুষের জীবনে কেন এতো দুর্ভোগ ? কেন এই করুণা সমান ভাবে সবার জন্য ক্রিয়াশীল থাকে না।
এই ব্যাপারটা বুঝতে গেলে, অহংকে ত্যাগ করতে হবে। বিশ্বশক্তির কাছে আত্মসমর্পন করতে হবে। তখন বোঝা যাবে যে যাকিছু ঘটছে তা সে ভালো হোক বা মন্দ, সবকিছুর পিছনে একটা শুভ-ইচ্ছেশক্তি কাজ করছে। তখন জীবনে বেঁচে থাকবার জন্য যত সংগ্রাম, যত কষ্ট, যত দুঃখ তা দূর জন্য যাবে। ডাক্তার যখন আমাদেরকে তেতো ঔষধ খাওয়ায়, যখন ইঞ্জেকশনের ব্যাথা দেয় , যখন ছুরিকাঁচি দিয়ে আমার পেটটা কেটে ফেলে, তা আসলে একটা শুভ উদ্দেশ্যে শুভ ফলের জন্যই, আমার ভালোর জন্যই করে থাকেন। এই চেতনা যখন কারুর মধ্যে জেগে উঠবে, তখন মনের মধ্যে সত্যকে, শুভশক্তিকে, বিশ্বশক্তিকে খুঁজবার জন্য একটা প্রেরণা জাগবে। যদিও এই শুভশক্তিকে সম্পূর্ণ রূপে জেনেবুঝে ওঠা কারুর পক্ষেই সম্ভব নয়, তথাপি করুণাশক্তির ক্রিয়া যে সর্বত্র ঘটে চলেছে, তা আমাদের কাছে নিশ্চিত হয়ে যাবে। তখন সাময়িক সুখ-দুঃখ, ব্যাথা-বেদনা তোমাকে অস্থির করতে পারবে না।
আমাদের সবার মধ্যে আছে চেতনশক্তি। এই চেতনশক্তি যখন অহংমুক্ত হয়, তখন প্রতি মুহূর্ত হয়ে উঠবে ভগবৎ-সান্নিধ্যে বাসের অনুভূতি। আসলে চৈতন্যশক্তি এই অহংয়ের সান্নিধ্যে এসে অহমিকায় ডগমগ হয়ে আছে। নিজেকে কর্ত্তা ভেবে সমস্ত কর্ম্মের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছি। আর এই কর্ম্মভার আমাদের জীবনকে বিষাদগ্রস্থ করেছে।
দেখুন জগতে দুটো শক্তি ক্রিয়া কড়ছে।
একটা হচ্ছে প্রাকৃতির শক্তি। যা আদলে সর্ব্বজনীন। সবার ক্ষেত্রেই এর ক্রিয়া একই রকম হয়ে থাকে। আগুনে হাত দিলে, আপনার হাত পুড়বে। আপনি পণ্ডিত হলেও পুড়বে , আবার মূর্খ হলেও পুড়বে। আপনি ভালো মানুষ হলেও পুড়বে, খারাপ মানুষ হলেও পুড়বে। প্রকৃতির কাছে সবাই সমান। সূর্য সবার কাছেই আলো পৌঁছে দেবে, চাঁদের জ্যোৎস্না সবার সবাইকে স্নিগ্ধ করবে। জলের আদ্রতা, আগুনের দাহিকাশক্তি, সবাইকে স্পর্শ করবে। অর্থাৎ আপনি যেমন কর্ম্ম করবেন, তেমন ফল মিলবে। এই যে প্রকৃতি তা কখনো নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ করতে পারে না। সূর্য কখনো আলো দেওয়া বন্ধ করতে পারে না। বাতাস কখনও স্থির থাকতে পারে না। জল কখনও তার আদ্রতা ত্যাগ করতে পারে না।
দ্বিতীয় হচ্ছে দৈব কৃপা - আসলে দৈব কৃপা বলতে আমরা যা বুঝি তা আমাদের পূর্ব্ব পূর্ব্ব জন্মের কর্ম্মফল ছাড়া কিছু নয় , কবে কি করেছিলাম, তা আমাদের স্মৃতিতে না থাকলেও এর ক্রিয়াশক্তি কখনো নষ্ট হয় না। ফলপ্রদানে উন্মুখ এই প্রারব্ধ কর্ম্মফলকেই আমরা দৈব কৃপা বলে ভুল করে থাকি।
তৃতীয়ত হচ্ছে ঈশ্বরের অহেতুক করুনা। আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ঈশ্বরের এই অহেতুক করুণা । আগের দুটো বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বিশেষ কারন। ঈশ্বরের অহেতুক করুণা কথা সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা যাচ্ছে এই করুণার কোনো হেতু বা কারন খোঁজা নিরর্থক। কিন্তু এই করুণা কোথায় কখন কখন বর্ষিত হবে তার জন্য কিছু শর্ত খুঁজে পেয়েছেন, আমাদের প্রাচীন ঋষিমুনিরা। চুম্বকের কাছাকাছি এলে যেমন লোহা একটা আকর্ষণ বোধ করে। আমিষ-ভোজী গাছ তার পাপড়ি মেলে ধ'রে নিজেকে উন্মুখ করে থাকে। পোকা মাকড় একসময় সেই সৌন্দযের ফাঁদে পড়ে নিজেকে হারায়। ঠিক তেমনি ঈশ্বর সারাক্ষন উন্মুখ হয়ে আমাদের আকর্ষণ করছেন, আমরা যারা ঈশ্বর বিমুখ তারা ঈশ্বরের এই আকর্ষণ উপলব্ধি করতে পারি না। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা এই ঈশ্বরের টান অনুভব করেন, এবং ঈশ্বর সান্নিধ্যে এসে নিজেকে ঈশ্বরের করুনার পাত্র করে তোলেন। শিশু যেমন খেলতে খেলতে নিজের অজ্ঞাতসারেই পুকুরের জলে পড়ে যায়, আর সেখান থেকে সে উঠতে পারে না, তেমনি সাধক, সাধন করতে করতেই একদিন সে ব্রহ্মসাগরে ডুবে যায়। তখন সে তার নিজের "আমি" সত্ত্বা হারিয়ে ব্রহ্ম সত্ত্বায় ডুব দেয়। বাহ্য অহংবোধ, বা চেতনা যতক্ষন না হারাচ্ছে , যতক্ষন না আমরা জগতের সবকিছু ভুলে যেতে পারছি, ততক্ষন ঈশ্বরের করুনা অনুভবে আসে না।
----------------------
Comments
Post a Comment