ধর্ম্ম-কর্ম্মের সূক্ষ্ম তত্ত্ব - ধর্ম্মব্যাধের আখ্যান

ধর্ম্ম-কর্ম্মের সূক্ষ্ম তত্ত্ব - ধর্ম্মব্যাধের আখ্যান 

এই গল্প হয়তো আপনারা অনেকেই শুনেছেন। কৌশিক নাম এক যুবক ব্রাহ্মণ  সাধনার নিমিত্ত  পিতা-মাতা-সংসার ছেড়ে, নিৰ্জন  জঙ্গলে একটা গাছের তলায়, বসে সাধন ভজন করতো। তো একদিন যখন তিনি যোগস্থ হয়ে বসে আছেন, তখন তার মাথায় , গাছে উপবিষ্ট বকের নিঃসৃত  বিষ্ঠা  এসে পড়লো। শিরোদ্দেশে বকের বিষ্ঠা পতন, ব্রাহ্মণ পন্ডিতের ক্রোধ উৎপাদন করলো। রাগান্নিত হয়ে যখনই বিষ্ঠা পতনের হেতুর উদ্দেশ্যে গাছের শীর্ষদেশের  দিকে তাকালেন, তখন তার দৃষ্টি বকের উপরে পড়লো।  আর তক্ষুনি বকের প্রাণত্যাগ করে, ব্রাহ্মণ-যুবকের সামনে এসে পড়লো। এতে তিনি আশ্চর্য্য হয়ে, নিজের যোগ-বিভূতির জন্য গর্বিত হলেন। মনে মনে ভাবতে লাগলেন, আমার যোগসাধনা উচ্চখাতে বইছে - আমায় এখন যোগসিদ্ধ পুরুষ, আমার সাধনা সম্পূর্ণ হয়েছে । 

এখন মনের মধ্যে যখন ক্ষমতার দম্ভ জেগে ওঠে তখন তা কাউকে না কাউকে দেখাবার জন্য, মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। নিজের শারীরিক শক্তি যখন বৃদ্ধি পায়, তখন সে অন্যকে মল্লযুদ্ধে আহবান করে। মানুষের যখন পুঁথিগত শাস্ত্রবিদ্যা আয়ত্ত্বে আসে, তখন সে অন্যকে শাস্ত্রযুদ্ধে পরাজিত করতে চায়।  তেমনি যোগের ফলে যখন যোগের ঐশ্বর্য্য প্রকাশ পেতে থাকে, তখন সে তা প্রদর্শনের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। আর সত্যি কথা বলতে কি, এই প্রদর্শনের ইচ্ছে, বা প্রদর্শনের কারনে, সে সাধন পথ থেকে বিচ্যুত হয়। 

এই কারণেই যোগীশ্রেষ্ঠ ঋষি পতঞ্জলি, তার যোগদর্শন পুস্তকের বিভূতিপাদে - যোগৈশ্বর্য্যকে উপেক্ষা করতে বলেছেন, যা আসলে যোগের অন্তরায় বিশেষ।  এই সিদ্ধিগুলো যোগের বাধা স্বরূপ কারন তা সমাধির প্রতিবন্ধক।  - "তে সমাধৌ উপসৰ্গা" .কিন্তু সত্য হচ্ছে চোরে  না শোনে ধর্ম্মের কাহিনী। যোগ ঐশ্বর্য্য যোগীকে বিমোহিত করে। আমাদের গল্পের নায়কও তার এই আশ্চর্য যোগ-ক্ষমতার প্রদর্শন নিমিত্ত গ্রামের পথে ভিক্ষের নাম করে বেরিয়ে পড়লো। আর "ভিক্ষাং দেহি" - বলে এক গৃহস্থের দুয়ারে এসে পা রাখলো। কিন্তু গৃহিনী "দিচ্ছি" বলে  স্বামী সেবায় নিযুক্ত হলো। এখন যোগ-ঐশ্বর্জ্যের অধিকারী অহঙ্কারী ব্রাহ্মণ তনয়, রেগে গিয়ে গৃহিণীকে সতর্ক করে বলে বললো, "তুমি কি জানো, আমার কি যোগশক্তি ? আমি তোমাকে এখনই ভষ্ম করে দিতে পারি। তুমি কিনা আমাকে উপেক্ষা করে, তুচ্ছ এই পুরুষের সেবা করছো ? " - তার এই কথায়, গৃহিনী কর্নপাত না করে সে তার স্বামীসেবাতেই  ব্যস্ত থাকলো ।  এবং ব্রাহ্মণকে একটু অপেক্ষা করতে বললো। ব্রাহ্মণ  এতে যার-পর নেই বিরক্ত হয়ে, একই কথা বারংবার উচ্চারণ করতে লাগলো।  এতে গৃহিনী বাধ্য হয়ে, ব্রাহ্মণকে  শান্ত হবার উপদেশ দিলো। ব্রাহ্মণ আরো  রেগে গালাগাল শুরু করে দিলো।  গৃহিনী এবার বাধ্য হয়ে বেরিয়ে এসে বললো "তুমি কি আমাকে বক-পাখি  ভেবেছো, যে ভষ্ম করে দেবে ? তোমার দেখছি, এখনো জ্ঞানোদয়  হয়নি।" এবার ব্রাহ্মণ তনয়  বিস্মিত হলো। কে ইনি ? ইনি  কি করে জানলেন, যে আমি একটু আগে, একটা বককে ভষ্ম করেছি ?  

এবার  যেন, ব্রাহ্মণ তনয়ের হুশ হলো। কে মা আপনি ? আমাকে পথ দেখান।  আমি না বুঝে আপনাকে অভিসম্পাদ করেছি, আমাকে দীক্ষা দিন, আমাকে যথার্থ জ্ঞান দান করুন। গৃহিনী বললেন, তুমি ধর্ম্ম ব্যাধের  কাছে যাও ।  তিনিই তোমাকে যথার্থ শিক্ষা দেবেন। এই বলে তাকে ধর্ম্মব্যাধের ঠিকানা বলে দিলেন। 

দ্বিজোত্তম কৌশিক এবার এই  ধর্ম্ম-পরায়না গৃহিণীর পরামর্শে মনের মধ্যে ধর্ম্ম-কর্ম্মের গুহ্য রহস্য জানবার জন্য ধর্ম্মব্যাধের  কাছে উপস্থিত হলেন।  এসে দেখলেন, এক মাংসবিক্রেতাকে।  সে তার দোকানে মহিষ, হরিণ, বরাহ  ইত্যাদির মাংস-কেটে বিক্রি করছে। দোকানে ভিড় ছিল। কৌশিক সেখানে কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলেন। ব্যাধ কিন্তু কৌশিককে দেখেই তার আগমনের উদ্দেশ্য বুঝতে  পারলেন। তথাপি কৌশিক কোনো কথা বলছে না দেখে, বললেন, হে বিপ্র - বলুন আমি আপনার জন্য কি করতে পারি ? কৌশিক মনে মনে ভাবছে, যার পেশা হচ্ছে পশুমাংস কেটে বিক্রি করা, তার কাছে কি ধর্ম্ম উপদেশ মিলতে পারে ? আমি কি ভুল লোকের কাছে এসেছি ? ইত্যাদি ইত্যাদি নানান কথা তার মনের মধ্যে উদয় হচ্ছে - কিন্তু তিনি সেখানে মুখ বুজে দাঁড়িয়ে আছেন। 

ধর্ম্মব্যাধ  বললেন, আপনি কেন এসেছেন, তা আমি জানি। কিন্তু আপনি এই শহরে নতুন, রাস্তাঘাট আপনি কিছুই চেনেন না।  আপনি একটু অপেক্ষা করুন। দোকানের কাজ শেষ হলেই, আপনাকে আমি আমার বাড়িতে নিয়ে যাবো। ব্যাধের প্রথম কথাতেই, অর্থাৎ ব্যাধ  সব জানে, একথাতেই, কৌশিক তার ভাবনা থেকে নিরস্ত্র হলেন। আর চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগলেন। 

দোকান বন্ধ  করে একসময় ব্যাধ ব্রাহ্মণ কৌশিককে নিয়ে তার বাড়িতে এলেন। বাইরের ঘরে তাকে বসিয়ে রেখে প্রথমে ভিতরে গেলেন, মা-বাবাকে প্রণাম করতে। সেখান থেকে এসে, ব্রাহ্মণকে যথাযথ সেবা যত্ন করে, উপযুক্ত পানাহার করিয়ে বিশ্রাম করতে বললেন। কিন্তু জাত্যাভিমানী ব্রাহ্মণ কৌশিকের  মধ্যে নানান প্রশ্ন উঠতে লাগলো। বললেন, হে ব্যাধ, তোমার এই মাংস বিক্রি কর্ম্ম মানায় না। আমি শুনেছি, তুমি ধর্ম্ম-পরায়ণ ব্যক্তি। আমার এটা  দেখে খুব খারাপ লাগছে, যে তুমি একজন মাংস-বিক্রেতা।  এই কাজ অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এই কাজ তুমি পরিত্যাগ করো। 

ব্যাধ বললেন, দেখুন এটি আমার কুলধর্ম্ম।  আমার পূর্ব-পুরুষ সবাই এই কাজ করেই জীবন নির্বাহ করতেন। আমিও আমার কুলধর্ম্ম পালন করছি। আপনি ব্রাহ্মণ, আমার এই কাজ দেখে আপনার মধ্যে হয়তো জাতক্রোধ জেগেছে। আমি এই কাজ করেই বৃদ্ধ-পিতা-মাতার সেবা যত্ন করি, আমি সত্য-বাক্য ব্যবহার করি। কারো প্রতি হিংসা করি না। যথাসাধ্য দান  করি, কারো কুৎসা বা নিন্দা  করি না। দেখুন এই জগতে সবাই যে যার পূর্বপুরুষের অনুসরণ করে থাকে। কৃষক-সন্তান কৃষি কাজ করে, কেউ গো-পালন করে, কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করে।  ভিন্ন ভিন্ন লোকের ভিন্ন ভিন্ন পেশা। 

হে ব্রাহ্মণ আমি পশুহত্যা করি না, অন্যের দ্বারা হত পশুর মাংস বিক্রি করে থাকি। আমি নিজে মাংস আহার হিসেবে গ্রহণ করি না। তাই বলে ভাববেন না, যারা পশু হত্যা করে জীবিকা নির্বাহ করে, তারা অধার্ম্মিক। তারাও অধার্ম্মিক নয়।  রাজার কাজ যেমন ধর্ম্ম অনুসারে প্রজা পালন করা। আবার  ব্রাহ্মণ  ধর্ম্ম অনুসারে তপঃ সাধনা করবে, ক্ষত্রিয় দেশ ও প্রজাগণের রক্ষা করবে। বৈশ্য ব্যবসা বাণিজ্য করবে, শূদ্র সমাজের সেবার কাজ করবে। হে দ্বিজবর এই জনক রাজার রাজত্বে কেউই অধর্ম্ম করেন না।  এমনকি রাজাও ধর্ম্ম অনুসারে প্রজা পালন করে থাকেন। সমস্ত ধর্ম্ম-বর্ণের মানুষ তার কাছে সমান অধিকার পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

জানবেন, প্রজা নয়, রাজা অধর্ম্মিক হলে, তবেই ধর্ম্ম সংকীর্ণ হয়। তখন প্রজারাও অধার্ম্মিক হয়ে ওঠে। তখন অধার্ম্মিক প্রজাকুল বিনাশের দিকে এগিয়ে যায়। যারা আমার প্রসংসা করে বা নিন্দা করে উভয়কেই আমি বিনয়ের সাথে সেবাযত্ন করে থাকি। সত্যের অনুসরণ, ত্যাগ, তিতিক্ষা, অন্নদান, ইত্যাদি আমার নিত্যধর্ম্ম। কাম, ক্রোধ, লোভ, দ্বেষ, ঘৃণা, ভয় আমাকে ত্যাগ করেছে। যা সর্ব মঙ্গলের কারন, সেই কর্ম্ম আমি আমার কর্তব্য বোধে করে থাকি। অন্যায়কারীর প্রতি, অন্যায় আচরণ করি না।  পাপীর  প্রতি আমি পাপাচারন করি না।  সাধু মহাপুরুষের প্রতি আমি উপহাস করি না। ধর্ম্মিকের প্রতি আমি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে থাকি। 

পাপাত্মা বৃথাই শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া করছে। অহঙ্কারী  মহাপন্ডিত অসার চিন্তায় মগ্ন। দেখুন সূর্য্যের উদয়ে সকলই  প্রকাশিত হচ্ছে, তেমনি অন্তরাত্মা এই রূপের প্রকাশ করছে। দেখুন অন্যের  নিন্দা ও নিজের প্রসংসা করে না, এমন ব্যক্তি জগতে দুর্লভ। তবে কুকৰ্ম্ম  করে অনুতাপ করলে, ও সৎকর্ম্ম-এর অনুসরণ করলে সমস্ত পাপ নষ্ট হয়ে যায়।  এমন কোনো মানুষ নেই, যিনি কোনোদিন কোনো পাপাচারন করেননি। আর কেউ না জানুক, পাপাচারীর  অন্তরাত্মা সেই খবর রাখে।  আবার এই পাপের  ফলেই, তার একদিন বিনাশ হয়ে থাকে ।  কিন্তু ভ্রমবশত পাপাচারন করে, যদি সে তার জন্য অনুতপ্ত হয়, এবং ভবিষ্যতে পাপাচারন থেকে বিরত থাকে, তবে সে সর্ব্ব পাপ থেকে মুক্তি লাভ করে। 

হে ব্রাহ্মণ পণ্ডিত, লোভ এই পাপের  কারন বলে জানবেন। শাস্ত্রের অপব্যাখ্যাকারীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, অদূরদর্শী মনোভাবের জন্ম হয়, আর সাময়িক সুখের জন্য শাস্ত্রের অপব্যাখ্যায়  লুব্ধ হয়ে, ব্যক্তি পাপে অনুরক্ত হয়। অধার্ম্মিক ব্যক্তি ঘাসে ঢাকা পুকুরের মতো নিজেকে সাধু সাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। বাইরে তারা নিজেদেরকে ধর্ম্মিক বলে পরিচয় দেবার জন্য শাস্ত্রের শ্লোক  আওড়ায়। ধ্যানের  ভান করে। কিন্তু তাদের মধ্যে শিষ্টাচারের অভাব। নিজের স্বার্থ সামান্যতম ক্ষুন্ন  হলেই, তারা  ভিতর থেকে  ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। 

ব্রাহ্মণপুত্র  কৌশিক জিজ্ঞেস করলেন, আমি কিভাবে শিষ্টাচারের অভ্যাস করতে পারি ? 

ধর্ম্মব্যাধ  বললেন, যজ্ঞ, দান , তপঃসাধন, বেদ অধ্যয়ন, এবং সদা সত্যকে অবলম্বন করে কাম-ক্রোধ-লোভ-দম্ভ-কপটতা ইত্যাদিকে পরিহার করে, ধর্ম্ম বোধে প্রতিষ্ঠিত থাকুন। ধর্ম্মিক ব্যক্তি সদা  সদাচারী হয়ে থাকেন। সমস্ত দৈবকর্ম্মের উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্যকে অনুসদ্ধান। বেড হচ্ছে সমস্ত জ্ঞানের ভান্ডার। বেদের  রহস্য হচ্ছে সত্য, আর সত্যের রহস্য হচ্ছে দম, দমের  রহস্য হচ্ছে ত্যাগ।  তো ত্যাগ না থাকলে দম  থাকে না, আবার দম  না থাকলে সত্য থাকে না, আবার সত্য জ্ঞান না হলে বেদ নিস্ফলা। ব্যক্তির  জন্ম নয়, কর্ম্মের দ্বারাই  নিজেকে উন্নত করতে পারে।  কোথায় আপনি জন্ম গ্রহণ করেছেন, সে কথা ভুলে যান, নিজের বংশগৌরভ আপনাকে অভিমানী করেছে। একে  সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করুন। ক্রোধী ব্রাহ্মণ আর বিষধর সাপের মুখ থেকে যা কিছু নির্গত হয়, তা ক্ষতিকারক বিষ ছাড়া কিছু নয়।  পান্ডিত্যের অভিমান রয়েছে আপনার মধ্যে, এমনকি আপনি পিতা -মাতাকে ত্যাগ করে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছেন। এ আপনার ভুল সিদ্ধান্ত। যে পিতামাতা আপনাকে এই শরীর  দিয়েছে, তাদের আপনি উপেক্ষা করেছেন। এ আপনার অবিমৃশ্যতার  লক্ষণ। আপনি সাধনা করতে চাইছেন, অথচ কার সাধনা করতে চাইছেন, তা আপনি জানেন না। আগে নিজেকে জানুন, আপনার মধ্যেই সেই সাধনার ধন  লুক্কায়িত আছে। কোথায় আপনি জঙ্গলের মধ্যে, নিৰ্জনের খোঁজ করছেন ? নির্জনতা তো বাইরে নয়, নির্জনতা আপনার ভিতরেই অবস্থান করছে। শরীর ধারনের  জন্য কর্ম্ম করুন, ভিক্ষাবৃত্তি উঞ্ছবৃত্তি - একে  পরিত্যাগ করুন। শরীরকে রক্ষা করুন, শরীর ভিন্ন সাধনা হয় না। একে  যথাযথ পুষ্টি প্রদান করুন। আপনি পিতা-মাতার কাছে ফিরে যান, তাঁদের  সেবাযত্ন করুন। তা না হলে, আপনি মরেও শান্তি পাবেন না।  সর্বোপরি, জাত্যাভিমান ত্যাগ করুন, বেদের মধ্যে সেই সত্য-জ্ঞানের  আভাস  আছে, কিন্তু বেদ  মুখস্থ করে পন্ডিতি করবার অভিলাষ ত্যাগ করুন। বেদের জ্ঞান নিজের মধ্যে প্রকাশিত হতে দিন। আপনি চাইলে,  আমার সঙ্গে কিছুদিন থাকতে পারেন। কিন্তু আমি আপনাকে আপনার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যেতে বলবো, সেখানে  সংসারী হয়ে জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ করুন। তারপরে নিজের মধ্যে প্রবেশ করুন। যখন  সংসার আর আপনাকে টানবে না, তখন আপনি সত্যিকারের সত্যের সন্ধান পাবেন।  সংসার ত্যাগ নয়, নিজের মধ্যে যে  প্রবৃত্তি আছে, তাকে ত্যাগ করুন।  প্রবৃত্তির নিবৃত্তি হলে, আপনি যথাযথ যোগী হয়ে ঈশ্বর সান্নিধ্যে বাস  করতে পারবেন। আপনি জন্মান্তরের সাধক নন, আপনাকে জন্মান্তরে সাধক হতে হবে - তারই সাধন করুন। 

হে ব্রাহ্মণ, আপনার শুভ হোক, আপনাকে যিনি আমার কাছে পাঠিয়েছেন, সেই মহতী সাধিকা, সংসারের মধ্যেই উচ্চ সাধনায় রত আছেন। তাকে উপেক্ষা করা, আপনার উচিত হয়নি সত্য, কিন্তু তাকে উপেক্ষা না করলে, আপনি আমার কাছে পৌঁছতে পারতেন না। তাই তাকেই আপনি সাধনগুরু করে, সাধনা শুরু করুন। ভালো থাকুন, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, আপনার উদ্দেশ্য সফল হোক। 

------------     







Comments

Popular posts from this blog

নিত্যকথা

ঈশ্বর ও তাঁর উপলব্ধি

সত্যধর্ম্ম ও প্রেম